অদ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং রোজ শুক্রবার, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক: হাজি সোহেল আহমদ টুনু খানের আম্মা, হাজি, শাহ-মোছাঃ গুলনাহার খাতুন কামালী এর (চল্লিশার শিরনি) কুলখানি ও চেহলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে, (টুনু খানের নিজ বসত) জামালপুর খাঁন বাড়িতে।
এতে গ্রামের প্রত্যেক মহল্লার মসজিদে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়াও মিলাদ মাহফিল শেষে, উপস্থিত মুসল্লি ও শিশুদের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত খাওয়ানো হয়।
উল্যেখ্য: হাজি সোহেল আহমদ খান-টুনু সাহেবের আম্মা, বয়স ও নানামুখী অসুখ বিসুখে, দীর্ঘদিন প্রায় অচল ও শয্যাশায়ী ছিলেন, শেষ দিকে প্রায়, সপ্তাহখানেক সংজ্ঞাহীন থাকার পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং রোজ মঙ্গলবার ভোর ৬:৩০ মিনিটের সময় তিনি তাঁদের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
--------------------------------------
মরহুমা শাহ গুলনাহার খাতুন কামালী' এর পৈতৃক নিবাস: বৃহত্তর সিলেটের, সুনামগঞ্জ জেলার, জগন্নাথপুর উপজেলার, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের, শাহারপাড়া কামাল শাহ মৌজার খাদিম বাড়ীতে।
তাদের পূর্বপুরুষ ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী হযরত শাহ কামাল (রঃ)। এই পরিবারটি বংশানুক্রমিক ভাবে হযরত শাহ কামাল (রঃ) মাজার এর খাদিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার পিতামহ শাহ আব্দুল জব্বার কামালী ছিলেন, একজন সাধক পুরুষ এবং সেইসময়কার সরপঞ্জ সহকারী (বর্তমানে এই পদটি ইউপি সদস্য পদমর্যাদার)
এছাড়া সামরিক হিসাব নিরীক্ষা অফিসের অডিটর, Fc Army ও হিসাব নিরীক্ষা অফিসের, Superintendent এবং উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের প্রধান হিসাব নিরীক্ষক: জগন্নাথপুর উপজেলা-জনাব শাহ আবু তাহের কামালী, এছাড়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ লেখক ও আবৃত্তিকার এবং সিলেট থেকে প্রকাশিত সিলেট বিচিত্রার সহকারী সম্পাদক ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘যুক্তরাজ্যে সিলেটবাসী’ গ্রন্থের প্রকাশক বিশিষ্ট কবিও লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী: শাহ আতিকুল হক কামালী ও বৃটেনের মাদ্রাসায়ে কাসিমিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ আবু সাঈদ কামালী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী শাহ আনছারুল হক কামালী মরহুমার আপন সহোদর।
(সাবেক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদল।)
উপরোক্ত: এই তিন ভাইয়ের মা পূর্বোক্ত- হাজীঃ শাহ, মোছাঃ গুলনাহার খাতুন কামালী'
৮নং আশারকান্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মোঃ মদচ্ছির আলী মানিক মিয়া (মরহুম) এর দায়িত্বকাল ১৯৮৪-১৯৮৯ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ছিলেন অত্র ইউনিয়ন ভুক্ত ২নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সিলেক্টেড মহিলা মেম্বার।
সরকারি ত্রাণ সাহায্য সুবিধা পেলে অত্র ওয়ার্ডের সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে সুষমভাবে বন্টন করতেন।তৎকালীন নানা সীমাবদ্ধতায় ও মানুষের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
এবং তাঁর আমানতদারির বিষয়টি মোটামুটি কিংবদন্তিতুল্য যে কেউ টাকা পয়সা জমা রাখলে ঠিক যেভাবে দিতেন সেভাবেই চাহিবা মাত্র ফেরত পেতেন একটি সিকি আধুলি কিংবা নোটেরও কোন পরিবর্তন হতনা।
বিপদাপদ গ্রস্থ কেউ ধারকর্য নিতে এলে সাধ্যহলে বিমুখ করতেন না, এজন্য অনেক সময় অযাচিত অভাব অনটন ও বিরম্বনা ও সয়েছেন। তবু ও পরোপকারী মানসিক তাড়না ও স্বভাব ত্যাগ করেননি। এছাড়া শুধু কি টাকা পয়সার আমানতদারি? জমির দলিল,পর্চা, সোনা রূপা এমনকি অনেক বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরত মানূষের পাসপোর্ট ভিসা ও জমা রাখতেন তাঁর কাছে।
এছাড়া এই বিদুষী রমণী তাঁর সমকালীন সমাজের অগ্রগামী এক নারী জাগরণের পথিকৃৎ ছিলেন। বিশেষ করে জামালপুর গ্রামের তদানীন্তন নিরক্ষর নারী সমাজে শিক্ষা দীক্ষা প্রসারে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও
অপরিসীম অবদান সে যুগের মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বিবাহিতা হয়ে খান বাড়িতে আসার পূর্বে জামালপুর গ্রামের বর্তমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবশ্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। এছাড়া জামালপুর খান বাড়ি জামে মসজিদ ছিলো সে যুগে আরবি শিক্ষার একমাত্র মক্তব। তদুপরি সাবালিকা কিংবা নিরক্ষর গৃহবধূ যারা স্কুল কিংবা মক্তবে যেতে অপারগ কিংবা যাওয়ার সময় অতিক্রান্ত করে অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে ছিলেন এ বিদুষী মহিলা তাদের আলোর পথ দেখাতে এগিয়ে এলেন..। নিজের ঘরেই খুলে বসলেন, ব্যক্তিগত এক মক্তব পাঠশালা, এবং সেখানে নিজেই নিয়োজিত হলেন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক। বিনা পারিশ্রমিকে নিরলসভাবে সুরা, ক্বিরাত, কায়দা, আমসিপারা, ও পবিত্র কোরআন মজিদ পড়া শেখাতেন। ব্যবহারিক বাংলা ভাষা লেখাও পড়া শিখিয়ে অসংখ্য নিরক্ষর নারী'কে তিনি স্বাক্ষর করে তুলতেন।
এবং তার স্মরণ শক্তি ও দ্বীনি শিক্ষার ইলম অত্যন্ত সুতীক্ষ্ণ ছিল। অনেক মাসআলা মাসায়েল জানেন, তৎকালীন অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন, স্থানীয় গ্রামের পাড়া প্রতিবেশী বহু মানুষ আসতেন তাঁর কাছে অনেক সুক্ষ্ম বিষয়ে মাসআলা মাসায়েল ও নামাযের নিয়ম কানুন জানতে। বিশেষ করে বার্ষিক ইসলামী পবিত্র দিবস যেমন: শবেবরাত, শবে মি'রাজ, শবেক্বদর, পবিত্র আশুরা ইত্যাদি'র নফল ইবাদত বন্দেগী'র নিয়ম কানুন জানতে। এবং তিনি তা অনায়াসে বলে দিতেন। এজন্য সকলের আস্থা ও নির্ভরতা ছিল তাঁর প্রতি, এবং যে কাউকেই মায়া মহব্বত আদর আপ্যায়নে তিনি যথেষ্ট যত্নশীল ছিলেন সর্বদাই।
নিজস্ব জীবনে তিনি অত্যন্ত দ্বীনদার, ধর্মভীরু, মোত্তাকী, পরহেজগার।...মনে হয় তিনি "অদৃশ্য মৌচাকের"এক পাগল মৌমাছি। আল্লাহর ধ্যানে মশগুল, নতজানু। প্রতিদিন চশমা চোখে নুয়ে নুয়ে-পবিত্র কালামুল্লাহ (আল-কোরআন) পাঠ। এবং একাগ্র চিত্তে ফরয নফল নামাজ পড়েন প্রত্যহ।
অসুখ বিসুখ আর বয়সের ভারে যখন তিনি একান্ত ম্রিয়মান তবুও তপস্যায় ক্লান্তি নেই, হাতে তসবিহ জপতেন সর্বদা। নামাজ তো অবশ্য কর্তব্য এতে কোন বিরাম বিশ্রামের তোয়াক্কা নেই, কোন শিথিলতা নেই..। তার পুর্ব পুরুষ যে: এক মহান দরবেশ, তিনি তার যথার্থ উত্তরাধিকার বহন করছেন, তাঁর জীবনযাত্রায়..! বোধকরি আল্লাহ পাকের মহান ওলি হযরত শাহ কামাল (রঃ) ও তদীয় পীরানে পীর ৩৬০ আওলিয়াকুল শিরোমণি, সুলতানে বাঙালা হযরত শাহজালাল মযাররদে ইয়ামেনি (রঃ) এর নিরন্তর আশীষ ঝরে পড়ছে তাদের এই রূহানী দুলালীর মাথায়।
*উপরোক্ত সংবাদের শুরুতেই পাঠক মহলে তাঁর ইন্তেকাল ও কুলখানি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, সুতরাং সর্বশেষ, আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। এবং সকলের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি
আল্লাহপাকের এই পরোপকারী বান্দীর রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করার জন্য।
হাজী: সোহেল আহমদ খান-টুনু এর বাসভবন এবং নিজ ড্রয়িং রুমে আগত অতিথিদের সাথে টুনু খাঁন।
এছাড়া পরবর্তী ছবিতে জামালপুর খাঁন বাড়ির বিভিন্ন দৃশ্য।
Chife Editor: Md. Sadiqur Rahman Rumen
© All rights reserved