সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চার গ্রামে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় উপজেলার চার গ্রামে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যেক গ্রামে প্রতিটি জামায়াতে শতাধিকের উপর মুসল্লীগণ অংশ গ্রহন করেন।
রোববার সকাল ১০টায় উপজেলার উওর বড়দল ইউনিয়নের আমতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পাশে আমতৈল জামে মসজিদ ঈদুুল ফিতরের জামায়াতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ক্বারী তাজুল ইসলাম।
একই ভাবে উপজেলার উওর বড়দল ইউনিয়নের পুরানঘাট, রজনীলাইন, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়াসহ উপজেলার ওই চার গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের সদস্যরা পবিত্র ঈদ- উল ফিতরের জামায়াত আদায় করেন।
ঈদ উদযাপনকারী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ‘মির্জা কিল দরবার শরীফের’ অনুসারী তারা। তাদের পূর্ব পুরুষরা ওই দরবার শরীফের মুরিদ। সেখানকার দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই রোজা ও পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেন। তবে ঈদ-উল আযহা সারাদেশের ন্যায় উদযাপন করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, উপজেলার আমতৈল সহ চার গ্রামের শতাধিকের উপর পরিবারের সদস্যরা প্রতি বছরের ন্যায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করেছেন।
ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করেছে কয়েকটি গ্রামের কিছু মুসল্লি। দেশের প্রচলিত নিয়মানুসারে এলাকায় একদিন আগেই ঈদ পালন করায় স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আজ রোবরার ( ৩০ মার্চ ) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার ছাদে নামাজ আদায় করেন।
ঈদের নামাজে ইমামতি ও খুৎবা পাঠ করেন হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
সকাল থেকেই জেলার সদর উপজেলার,পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হেঁটে,বাইসাইকেল ,মোটরসাইকেল নিয়ে তালুক ঘোড়াবান্ধা মধ্যপাড়ায় জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা স্থানীয় একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ছাদে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের জামাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুসহ ৩০-৪০ জন মুসুল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা যথা নিয়মে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন।
নামাজে আসা তালুকঘোড়াবান্ধা গ্রামের মুসা মিয়া (১৯) একই গ্রামের সোলায়মান (৪৫) বলেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়তেই আজ সকালে এখানে আসছি । সবাই মিলে ঈদুল ফিতর আদায় করলাম। এভাবেই ১০ বছর ধরে ঈদ করে আসছি।
একই গ্রামের মোস্তফা বলেন, আমাদের গ্রামের ৮-১০ টি পরিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি।
গাইবান্ধা উপজেলার সদর উপজেলার তিনগাছতলা এলাকার শাকিল (৩২) বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আমার গ্রামে আমি ও আমার পরিবার মিলে সৌদির সাথে মিল রেখে নামাজ আদায় করি।
এদিকে, একদিন আগে ঈদ পালনে অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।