,
,
জগন্নাথপুর বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
বাংলাদেশে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর ১৯৮৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর থানাকে উপজেলায় উত্তীর্ণ করা হয়।
১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে লাউড় রাজ্যের অধিপতি ছিলেন রাজা বিজয় মাণিক্য।
তৎকালে তিনি জগন্নাথ মিশ্রকে দিয়ে বাসুদেব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তীতে এই স্থানকে জগন্নাথ মিশ্রের নামানুসারে “জগন্নাথপুর” বলে ঘোষণা করেন।
আর সেই থেকে জগন্নাথপুর রাজা বিজয় মাণিক্যের রাজ্য বলে ঘোষিত।
জগন্নাথপুরের পাণ্ডুয়া থেকে রাজা বিজয় মাণিক্য সেই সময় নিজ নামের সঙ্গে দুই স্ত্রীর নাম যুক্ত করে ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে সিক্কা বা মুদ্রা প্রকাশ করেছিলেন।
এই সিক্কা মুদ্রাই রাজা বিজয় মাণিক্যের রাজ্যের প্রমাণ, যা কুবাজপুর গ্রামের মদনমোহন চৌধুরীর পরিবারদের কাছে সংরক্ষিত আছে। জগন্নাথপুর এককালে বর্তমান ভৌগোলিক সীমানার চেয়ে আরও বড় ছিল।
দ্বাদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জগন্নাথপুর রাজ্য লাউড়ের শাখা-রাজ্য ছিল এবং বংশানুক্রমে লাউড়ের নৃপতিগণ কর্তৃক শাসিত হত।
দিল্লি সম্রাটদের রেকর্ডে জগন্নাথপুর রাজ্য লাউড়ের এজমালি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত এবং শ্রীহট্টের ইতিহাসে বর্ণিত আছে যে, উক্ত লাউড় রাজ্য সর্বদা মোগল সম্রাটদের কাছে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে গণ্য ছিল।
তাই জগন্নাথপুর রাজ্যের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের কথা চলে আসে, কারণ এর পত্তনস্থলই হচ্ছে প্রাচীন লাউড়।
প্রাচীন লাউড়ের পত্তন সম্পর্ক মূলত প্রাচীন কামরূপ।[ বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ (৬০২–৬৬৪) কামরূপ রাজার আমন্ত্রণে ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে এদেশে ভ্রমণে এলে শ্রীহট্টকে কামরূপ রাজ্যের অংশ বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, বিভিন্ন বৌদ্ধগ্রন্থেও সিলেটকে সমুদ্র নিকটবর্তী বলা হয়েছে। এছাড়া নিধনপুরে প্রাপ্ত তাম্রলিপিগুলোও তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
খ্রিস্টপূর্ব ত্রিশ শতাব্দীতে ভগদত্ত নামের জনৈক নৃপতি কামরূপে রাজত্ব করতেন। তার রাজ্য বিবরণে বলা হয় যে, তৎকালে লাউড়ের পাহাড়ে ভগদত্ত রাজার একটি শাখা-রাজধানী ছিল। তিনি যখনই এদেশে আসতেন সেখানেই অবস্থান করতেন এবং লাউড় থেকে দিনারপুর পর্যন্ত নৌকাযোগে ভ্রমণ করতেন।
উপরে উল্লেখিত ঐতিহাসিক আলোচনায় প্রমাণ হয় যে, প্রাচীন শ্রীহট্টের নিম্নাঞ্চল তখনকার যুগে গভীর পানির নিচে নিমজ্জিত ছিল।
উল্লেখ্য, মহাভারত গ্রন্থের সভাপর্বে লিখিত: “ভিম পণ্ডু বঙ্গদেশ জয় করিয়া তাম্রলিপ্ত এবং সাগরকুলবাসী ম্লেচ্ছদিগকে জয় করেন।”
এই তথ্যের ভিত্তিতে ভূতত্ত্ব বিষয়ের পণ্ডিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্গে প্রবেশাধিকার গ্রন্থে মহাভারতে উল্লেখিত বঙ্গ উত্তর-পূর্ব বঙ্গদেশ অর্থে প্রাচীন লাউড় অঞ্চল বলেছেন।
সুতরাং উল্লেখিত লাউড় শ্রীহট্টই নয়, বঙ্গ হতেও প্রাচীন। পুরাতাত্ত্বিক রমেশচন্দ্র দত্তের মতে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী কামরূপ রাজ্যের বিস্তৃতি প্রায় ২,০০০ মাইল। আসাম, মণিপুর,ময়মনসিংহ, শ্রীহট্ট, কাছাড় প্রভৃতি নিয়ে কামরূপ বিস্তৃত ছিল।
সুতরাং, এদিক থেকে বিবেচনায় প্রতিভাত হয় যে নৃপতি ভগদত্তের লাউড় রাজ্য মহাভারত কালের চেয়েও প্রাচীন। মহাকাব্য মহাভারতে প্রমাণ মেলে যে রাজা ভগদত্ত যুদ্ধে মহাবীর অর্জুন কর্তৃক নিহত হন।
ভগদত্ত রাজার পরে তার পুত্রগণের মধ্যে ১৯ জন নৃপতি পর্যায়ক্রমে কামরূপ তথা লাউড়ে রাজত্ব করেন। ভাটেরায় প্রাপ্ত তাম্রফলকে বর্মান, ঈশানদেব তাদেরই বংশধর বলে ইতিহাসবেত্তাগণ উল্লেখ করেছেন। এই রাজাগণ চন্দ্রবংশীয় বলে খ্যাত।
উক্ত ১৯ জন নৃপতির অনেকদিন পরে প্রাচীন লাউড় রাজ্যে নৃপতি বিজয় মাণিক্য আবির্ভুত হন। ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় মাণিক্য জগন্নাথপুর রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং ছিক্কা মুদ্রার প্রচলন করেন।
অন্যদিকে ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেন দেশীয় তাপস
হজরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে প্রাচীন শ্রীহট্টের গৌড় রাজ্য জয় করেন।
শাহজালালের এই সঙ্গী ও অনুসারীগণ ইসলামের পবিত্র বাণী নিয়ে শ্রীহট্ট সহ বঙ্গদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। তারই ধারাবাহিকতায় ৩৬০ আউলিয়ার মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে হজরত শাহ কামাল উদ্দীন কোহাফার নেতৃত্বে ১২ জন আউলিয়া জগন্নাথপুর রাজ্যে আসেন। আগত আউলিয়াদের নাম ও বর্তমানে অবস্থিত মাজার যথাক্রমে:
১/ হজরত শাহ কামাল কোহাফাহ শাহারপাড়া গ্রামে
২/ সৈয়দ শামস উদ্দিন – সৈয়দপুর গ্রামে ।
৩./ শাহ কালু – পীরেরগাঁও,
৪ / শাহ চান্দ – চান্দভরাং ।
৫ /দাওর বখশ খতিব দাওরাই গ্রামে
৬ /শাহ ফৈজ উদ্দিন বা ফেছন উদ্দিন ফেছি গ্রামে।
৭ / সৈয়দ শামস উদ্দিন বিহারি – আটঘর গ্রামে।
৮ /শাহ কালা মানিক – মণিহারা গ্রামে ।
৯ /শাহ জালাল উদ্দিন – খুজগীপুর গ্রামে
, ১০/ সৈয়দ বাহাউদ্দিন ও সৈয়দ জিয়া উদ্দীন মোকাম বাজার ।
১১. সৈয়দ রুকনুদ্দিন – কদমহাটা ।
১২ / সৈয়দ তাজউদ্দিন শেরপুর তাজপুর ।
উল্লেখ যে, মীরপুরে অবস্থানরত শাহ চান্দ পরবর্তিতে চান্দভরাং গ্রামে চলে যান এবং সেখানেই বর্তমানে তার মাজার অবস্থিত।
———— চলবে ।
(হুবহ তবে অল্প সংক্ষেপ করা হয়েছে )
*তথ্য সুত্র: জগন্নাথপুর উইকিপিডিয়া
ইতিহাস অধ্যায় ।